02333304531
১৯৯৫ সালের ৬ই জানুয়ারী তৎকালীণ শিক্ষা সচিব জনাব ইরশাদুল হকের সহযোগীতায় বগুড়া নট্রামসের পরিচালক জনাব আবদুল মান্নান সরকার, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ২৯তম কলেজ শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যৌথ কর্মশালার ৬টি সুপারিশ মোতাবেক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মমূখী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এইচ.এস.সি (বিএম) একটি প্যাকেজ শিক্ষা কর্মসূচী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে নতুন শিক্ষা শাখা হিসেবে প্রবর্তন করেন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে এ কর্মসূচী বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে একনেক এর সভায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে বেসরকারিভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের প্রতি ৪ লাখ লোকের হিসাবে একটি করে কলেজে বিএম কোর্সটি চালু করার প্রকল্প গৃহীত হয়। (বর্তমানে সারা বাংলাদেশে প্রায় ১৮০০ কলেজে বিএম কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে।) তারই সূত্র ধরে রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় রাংগামাটি মহিলা কলেজকে (পরবর্তীতে সরকারি) অত্র প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়; যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু এই বিএম কোর্সের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, এ প্রেক্ষিতে রাংগামাটির বাস্তবতায় একটি স্বতন্ত্র বিএম প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা আবস্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। তৎকালিণ সংসদ সদস্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব জনাব দীপংকর তালুকদার মহোদয় এর সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলে কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি অনুরাগ বশতঃ তিনি একটি স্বতন্ত্র বিএম প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাকে উৎসাহিত করেন। এভাবেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ১৯৯৭ সালের ২রা মে জনাব দীপংকর তালুকদার মহোদয়কে সভাপতি করে ও মাহমুদুন নবী খান-কে সদস্য সচিব করে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করার মাধ্যমে রাঙ্গামাটি বি এম ইনস্টিটিউট এর যাত্রা শুরু হয়। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি (SRO-৫৩) মোতাবেক জেলা সদরে অবস্থিত বিএম প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকগণ অদ্যাবধি দায়িত্ব পালণ করে আসছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই বিএম কোর্সটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কম্পিউটার বিষয়টিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। সাধারণ শিক্ষাক্রমে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়টি সম্প্রতি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে যার অনেক আগেই বিএম কোর্সটিতে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে বিএম কোর্সের অধীনে (১) কম্পিউটার অপারেশন (২) সেক্রেটারিয়াল সায়েন্স (৩) উদ্যোক্তা উন্নয়ন (৪) হিসাব রক্ষণ শিক্ষাক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ব্যাংকিং স্পেশালাইজেশনটি প্রস্তাবিত রয়েছে।